প্রকাশিত: / বার পড়া হয়েছে
কলকাতা দিয়ে শুরু, পরে হায়দরাবাদ, মুম্বাই ও দিল্লি হয়ে আম্বানি পরিবারের আমন্ত্রণ রক্ষার মাধ্যমে শেষ হয়েছে লিওনেল মেসির ভারত সফর। এশিয়ার দেশটিতে এবারের সফরে মেসির সঙ্গে ছিলেন দুই বন্ধু ও ইন্টার মায়ামি সতীর্থ লুইস সুয়ারেস ও রদ্রিগো দে পল।
তা ভারত সফরে লিওনেল মেসি কত টাকা পেয়েছেন? এক তদন্তে উঠে এসেছে, এ সফরে মেসি একাই পেয়েছেন ৮৯ কোটি রুপি, বাংলাদেশি অর্থমূল্যে যা প্রায় ১২১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
তবে এত টাকা পেলেও ভারত সফরে একটি বিষয় নিয়ে অসন্তুষ্ট ও বিরক্ত ছিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। বিশেষ তদন্ত দলের (এসআইটি) এক তদন্তে বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই।
মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, মেসিকে নিয়ে তদন্ত শুরু করা হলো কেন? তদন্তের সূত্রপাত মেসির কলকাতা সফরের অংশকে ঘিরে। সল্ট লেক স্টেডিয়ামে মেসিকে ঘিরে আয়োজন বিশৃঙ্খলতায় রূপ নিয়েছিল। চড়া দামে টিকিট কিনেও মেসিকে ঠিকঠাক দেখতে না পেরে সেদিন স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালান বিক্ষুব্ধ জনতা।
এ ঘটনা গড়ায় আদালতে। মেসির ভারত সফরের আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুরু হয় তদন্ত। সেই তদন্তে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে শতদ্রু দত্ত মেসির ভারত সফরের আর্থিক তথ্য দেন। বার্তা সংস্থা পিটিআইকে এক তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, ‘লিওনেল মেসিকে এই সফরের জন্য ৮৯ কোটি রুপি দেওয়া হয়েছে। আর ভারত সরকারকে কর হিসেবে দেওয়া হয়েছে ১১ কোটি রুপি। সব মিলিয়ে মেসিকে আনতে খরচটা তাই ১০০ কোটি রুপি।’
তা এই বিশাল অর্থের জোগান কোথা থেকে হয়েছে, সেটাও উঠে এসেছে তদন্তে। ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেছে ন, ‘৩০ শতাংশ অর্থ এসেছে স্পনসরদের কাছ থেকে, আর বাকি ৩০ শতাংশ এসেছে টিকিট বিক্রি থেকে।’
এছাড়া শতদ্রু দত্তের জব্দ করা ব্যাংক হিসাবে ২০ কোটি রুপির বেশি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন আরেক তদন্তকারী কর্মকর্তা। এছাড়া শতদ্রুর বাড়িতে তল্লাশি করে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জব্দ করেছেন তারা।
এত বিশাল পারিশ্রমিকের সফর, এরপরও কলকাতা অংশের ঘটনায় মেসি বিরক্ত ছিলেন বলে তদন্তের সময় জানিয়েছেন শতদ্রু দত্ত। জিজ্ঞাসাবাদের সময় শতদ্রু বলেছেন, মেসি ‘পিঠে হাত দেওয়া বা জড়িয়ে ধরা’ একেবারেই পছন্দ করেন না। এই বিষয়টি আয়োজকদের আগেই জানিয়েছিলেন মেসির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।
এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদে শতদ্রু দত্ত বলেছেন, ‘দর্শকদের (মাঠের ভেতরে থাকা) সংযত থাকতে বারবার মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলেও কোনো কাজ হয়নি। যেভাবে মেসিকে ঘিরে ধরা হয়েছিল এবং জড়িয়ে ধরা হয়েছিল, তা বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবলারের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য ছিল না।’
কলকাতায় সল্টলেক স্টেডিয়ামে মেসি প্রবেশ করতেই তাঁকে অনেকে ঘিরে ধরেন। বেশ কয়েকজনকে দেখা যায়, মেসির খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে সেলফি নেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের ওই সময়ের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ দত্তকে সারাক্ষণ মেসির কাছাকাছি দেখা যায়। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ছবি তোলার সময় তিনি মেসির কোমরে হাত রেখেছিলেন!
অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ ওঠে, তিনি নিজের প্রভাব খাটিয়ে আত্মীয়স্বজন ও ব্যক্তিগত পরিচিতদের মেসির কাছে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। এ নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তদন্ত কর্মকর্তারা বের করার চেষ্টা করছেন, কীভাবে এত বেশি মানুষ মাঠের ভেতরের প্রবেশের সুযোগ পেলেন।
এ প্রসঙ্গে তদন্তে শতদ্রু দত্ত দাবি করেছেন, শুরুতে ১৫০টি গ্রাউন্ড পাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্টেডিয়ামে একজন ‘খুবই প্রভাবশালী ব্যক্তি’ যাওয়ার পর সেই সংখ্যা তিনগুণে পরিণত হয় এবং ওই ব্যক্তি আয়োজকদের ওপর প্রভাব খাটান। শতদ্রুর এ দাবি খতিয়ে দেখছেন বলে উল্লেখ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।